চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠক দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রতিফলন বলে উভয় পক্ষ উল্লেখ করেছে।

বৈঠকে মালদ্বীপ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমিনাথ শিরনা ও খাদিজা আবদুল সামাদ আবদুল্লাহ, মালদ্বীপ মেডিকেল কাউন্সিলের সভাপতি ড. আলী শাহিদ মোহামেদ এবং রেজিস্ট্রার মোহামেদ শাফি এ. মুনিম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারিগরি প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, মহাপরিচালক (ডিজিএমই); মিস মল্লিকা খাতুন, যুগ্মসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল, বিপিএমসিএসহ অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যরা।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চিকিৎসা ও দন্ত শিক্ষা, এমবিবিএস ও বিডিএসসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চশিক্ষায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যখাতের জনবল চাহিদা পূরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরে জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে—এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি ও ৫৮টি বেসরকারি—যেখানে মোট ১১ হাজার ১০১টি আসন বিদ্যমান। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট আসনের ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত মালদ্বীপের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের মালদ্বীপে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো অতিরিক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় না, যা বাংলাদেশ সরকারের সৌহার্দ্য ও আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এ ছাড়া অনেক দেশে এমবিবিএসের পর ইন্টার্নশিপের সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশে তা বিদ্যমান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালভিত্তিক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়, যা দ্বীপভিত্তিক মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়ক হবে।
এ বছর বাংলাদেশে ৬৫ জন মালদ্বীপীয় মেডিকেল ইন্টার্ন প্রশিক্ষণরত রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে ৮৩টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে মালদ্বীপীয় ইন্টার্নের সংখ্যা ছিল ১০০ জনেরও বেশি।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সাদৃশ্য মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে বাংলাদেশে এমআরসিএস (MRCS) পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যা স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
মালদ্বীপের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকটি চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সমাপ্ত হয়, যা বাংলাদেশ–মালদ্বীপ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং উভয় দেশের টেকসই স্বাস্থ্য উন্নয়নে অবদান রাখবে।











