ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত রামিস শেন সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক পারস্পরিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ঐতিহাসিক বন্ধনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বাণিজ্যের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। এ সময় বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্ক সরকারের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্সির জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তুরস্কের সমর্থন কামনা করেন। এ বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে তুর্কি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত রামিস শেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিদ্যমান প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন এবং জানান, এটি প্রথমে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে শুরু হয়ে ভবিষ্যতে বিস্তৃত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে পরিণত হতে পারে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হলে বাংলাদেশ-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।











