ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কাইংলেট মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পৌঁছে দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত ফিলিপাইনের শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং ১৯৯৬ সালের শান্তি চুক্তির পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানেরও প্রশংসা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়টি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বসবাসরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিপিনো নাগরিকের কথা উল্লেখ করেন এবং দ্বিতীয় দফা ফরেন অফিস কনসালটেশনে নাবিক খাতে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি স্মরণ করেন।
তিনি জানান, শিগগিরই নার্সিং সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রম সহযোগিতা এবং দুই দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়েও আরও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ফিলিপাইনের টেকনিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (TESDA) সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণ জনসংখ্যা ফিলিপাইনের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, আইসিটি এবং বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করার বড় সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বৈঠকে বিমান পরিবহন সেবা, দুর্নীতি দমন সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত কয়েকটি অমীমাংসিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত আগামী বছর বাংলাদেশ–ফিলিপাইন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পরবর্তী ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পাটজাত পণ্য, সিরামিকস এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে ফিলিপাইনের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সম্প্রতি ফিলিপাইনে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়েও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময়, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যৌথ অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফিলিপাইনের সমর্থনও কামনা করেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–ফিলিপাইন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।











