ডেস্ক রিপোর্টঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ—প্রতিটি খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের প্রধান নারী সদস্যদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩৭ হাজারের বেশি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে এবং পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
ধর্মীয় সেবকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে হাজারো ধর্মীয় সেবক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন এবং আগামী চার অর্থবছরে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাকাত ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষিখাতের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলায় ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫৪টি জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।
সরকারের মিতব্যয়িতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ভিআইপি প্রোটোকল কমানো হয়েছে এবং সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং গুজব ও অপ্রয়োজনীয় মজুত থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে পূর্ব অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার ফলে শিল্পাঞ্চলে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি।
স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ই-‘হেলথ কার্ড’ চালু এবং এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে চাঁদাবাজি দমন ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারী যাত্রীদের সুবিধার্থে ‘পিঙ্ক বাস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক স্তর থেকে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ মওকুফ, প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন প্রণয়ন এবং বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপানে ভাষা শিক্ষার্থী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি নিশ্চিত করতে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা ও জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।











