January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গণতন্ত্রের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টায় দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন।

শোকসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এর আগে বেলা আড়াইটায় তারেক রহমানের উপস্থিতির পর খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শোকসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শোকগাথা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি আত্মমর্যাদা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সরকারকে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধি প্রদানের আহ্বান জানান।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। দেশের স্বার্থে তিনি আপসহীন ছিলেন। তাঁর উচ্চারিত আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছিল, তা ছিল ন্যায়বিচারবিরোধী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করতে হবে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে খালেদা জিয়ার উদারতা ও শেষবাণী আগামী বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।

নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া দলীয় সীমার বাইরে উঠে একজন জাতীয় নেত্রীতে পরিণত হয়েছিলেন, যা তার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই প্রমাণিত।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখন তারেক রহমানের কাঁধে, যা গর্বের পাশাপাশি বড় দায়িত্বও বয়ে আনে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার অন্যতম গুণ ছিল—শোনা, প্রশ্ন করা ও দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ইতিহাস তাকে মনে রাখবে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার শেষ বাণী প্রতিহিংসা পরিহার করে আলো ছড়ানোর শিক্ষা দেয়।

যায়যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ নিরাপত্তা ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়েছিল।

শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন দেবাশীষ রায়, বাসুদেব ধর, এফ এম সিদ্দিকী, সিমিন রহমান, এস এম এ ফায়েজ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শফিক রেহমানসহ আরও অনেকে।

বিকেল সাড়ে ৫টায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শোকসভা শেষ হয়।

শোকসভা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

Scroll to Top