April 4, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদ সভায় জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদ সভায় জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষে বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সম্বলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, সভায় ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির যোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সকল প্রকার আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল নয়টা হতে বিকাল চারটা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল নয়টা হতে বিকাল চারটা, এবং ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা হতে বিকাল তিনটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জরুরি সেবা ব্যতীত সকল অফিস ভবন, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে—মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সাথে আলোচনাপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।

সচিব জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ হ্রাসকল্পে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকুল্যে ২০ (বিশ) শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনসমূহকে ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এছাড়া, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ তাঁদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এছাড়া, ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করা হবে। সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ বন্ধ রাখা হবে।

সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করার বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Scroll to Top