ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে খাদ্য সমস্যার কথা, অভাবের কথা, কৃষকের দুরবস্থার কথা আপনি ও আমি চিন্তা করতে পারছি না। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে বছরে একবার ফসল ফলতো। কৃষকের ঘরে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদিকে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বছর সেচের পানি ধরে রাখার বন্দোবস্ত করেন, অপরদিকে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাধ্যমে। বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচের বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়। এর ফলশ্রুতিতে যে জমিতে একবার ফসল ফলতো, সেই জমিতে দুই থেকে তিনবার ফসল ফলতে শুরু করে।
তিনি শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বুরুলি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুরুলি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভবদহে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিরসনের প্রতীক হিসেবে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমরা এসেছি আশার আলো জ্বালাতে। আমরা এই বার্তা দিতে এসেছি—তারেক রহমানের সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথে সমব্যথী। এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধানের সূত্র খুঁজে বের করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো উন্নয়নের নাম করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। ভবদহ এলাকার মূল নিষ্কাশন নদীসহ টেকানদী, শ্রী, হরিয়ন, খরিয়ান ও আপারভাদ্রাসহ বিভিন্ন খাল (৮১.০৫ কিলোমিটার) পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ২১টি খালের খনন কাজ চলমান রয়েছে। পানি নিষ্কাশনে অবকাঠামোর ডিপ মেরামত বা প্রতিস্থাপন করে তা সচল করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ভবদহে ২১টি রেগুলেটার ও ১৭টি কপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক খান সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন আজাদ, জলাবদ্ধতা নিরসণের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশীদ, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জুলমত আলী এবং সাংবাদিক এম এ হালিম বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জাহিদ হাসান টুকুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাড়ে নয় কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় হবে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।











