বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবাসী কর্মী ও তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এসব খাতকে কেন্দ্র করেই বিএনপির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে দেশের জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষকদের অবস্থার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশে সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত জমির মালিক কৃষকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তিনি বলেন, ‘বিগত বিএনপি সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল। আগামীতে আমরা কৃষকদের সহায়তায় “কৃষি কার্ড” চালু করব। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণে ভর্তুকিসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’
স্বাস্থ্য খাতকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর’—এই নীতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশেও ইউরোপের দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী।

তারেক রহমান বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ‘আমাদের সম্পদ সীমিত, তাই জনসংখ্যাকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা জরুরি,’—যোগ করেন তিনি।
প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষ বিদেশে যান, যার বড় অংশই অদক্ষ। ‘তাদের যদি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো যায়, তাহলে জনশক্তি রপ্তানি থেকে আয় বহুগুণে বাড়বে,’ বলেন তিনি।
তিনি জানান, ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলো আধুনিকায়ন করা হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, ইউরোপ ও চীনের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বন্ড সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও আইটি খাতের বিকাশে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আইটি পার্কগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ছোট অফিস স্পেস ও ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় দেশে আনার ক্ষেত্রে পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এতে তরুণদের আয় ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়বে।
রাজনীতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আরও বাস্তবভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, মানুষের দৈনন্দিন চাওয়া-পাওয়া ও প্রয়োজন নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
সাংবাদিকদের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে এমন আলোচনা-সমালোচনা চাই, যা আমাদের দেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়তা করবে।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন— দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।












সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক রেজাউল করিম রনি, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্ট্রিম সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং বিএনপি বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।











