January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও অগ্রসর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও অগ্রসর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক বিনা চ্যালেঞ্জে ভোটকেন্দ্রে যাবে, আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবে এবং ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন পাবে। বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন আমরা চাই না। বোঝাপড়া হবে ভোটারদের সঙ্গে, কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।”

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে এবং কর্নেল (অব.) জাকারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম গোলাম মোস্তফার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্সের পূর্বশর্ত হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তা ব্যর্থ হলে তাদের সরে যাওয়া উচিত।

যুব সমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, “তোমরা এবার ভোট দেবে। আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। তোমরাই হবে জাতির পাহারাদার।”

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা দেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। এখন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন। “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতির মূল ধরে টান দিতে চাই।”

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনস্বীকার্য। জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

চব্বিশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেশ একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। “সেই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড কোনো ব্যক্তি নয়—সমগ্র জনগণই ছিল মাস্টারমাইন্ড।”

তিনি আরও বলেন, আগস্টের ৩ ও ৪ তারিখ জামায়াতে ইসলামী ছিল সবচেয়ে নির্যাতিত দল। তবুও দল রক্ষার নয়, দেশ রক্ষার লক্ষ্যেই তারা আন্দোলনে ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ কেউই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্র ও শাসনযন্ত্রে দায়িত্বশীলদের মধ্যে ভারসাম্য ও নির্দিষ্ট সীমা থাকা জরুরি—নইলে সেখান থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন কোনো গ্রহণযোগ্য ফরম্যাটেই পড়ে না। তরুণ প্রজন্মকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা অলস জাতি গড়তে চাই না। তবে যারা অক্ষম, রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব নেবে। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ ও অগ্রসর বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই।”

সবশেষে উপস্থিত সকলের পরামর্শ কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

Scroll to Top